ফলের উপকারিতা

আমলকির উপকারিতা, অপকারিতা এবং ঔষধি গুণাগুণ

আমলকি আমাদের খুব পরিচিত একটি ফল। আমলকির উপকারিতা অনেক বেশি। আগে প্রায় বাড়িতেই আমলকি গাছ ছিলো। কিন্তু এখন প্রায় খুব কম দেখা যায়। আমলকিতে থাকে প্রচুর পরিমান ভিটামিন সি। যা আমাদের দেহের ত্বকের জন্য খুব উপকারী। আজকে আমলকির উপকারিতা, অপকারিতা এবং ঔষধি গুনাগুন সম্পর্কে শেয়ার করবো আপনাদের সাথে। চলুন তাহলে জেনে নেই আমলকি সম্পর্কে।

আমলকি ফল (Amalki fruit)

আমলকির বৈজ্ঞানিক নাম (Phyllanthus emblica) এবং ইংরেজি নাম (Amla)। আমলকি হচ্ছে এক প্রকারের ভেষজ ফল। আমলকি দেখতে হালকা সবুজ ও হলুদ রঙ্গের গোলাকৃতির হয়ে থাকে। আমলকি এমন এক বেষজ ফল যা ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে পারে। আমলিকির পাতা ফল ও গাছের ছাল থেকে ঔষধ তৈরি করা যায়। যেমন, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার ও প্রদাহ এর ঔষধ বানানো হয়। আমলকি মানুষের রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।

আমলকির ব্যবহার

এই ফলটির অনেক ভেষজ গুণ রয়েছে। আমলকির ফল ও পাতা দুটুই ঔষদ হিসাবে ব্যবহার করা হয়। আমলকিতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি থাকে। একজন বয়স্ক লোকের দিনে ৩০ মিলি গ্রাম ভিটামিন সি খাওয়া দরকার। যা কেবল মাত্র দুটি আমলকি খেলেই পূরণ হয়।

আমলকি যেসকল রোগের উপকার করে।

আমলকি একটি ফল যা আমাদের অনেক দিক দিয়ে উপকার করে। বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ও অনেক সমস্যার সমাধান দেয়। আর তাই আমলকির গুনাগুন সম্পর্কে জানতে হবে।

  • অতিরিক্ত বমি বন্ধ করতে সাহাযয় করে।
  • আমলকি আমাদের রুচি বাড়ায়।
  • হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কের উপকার করে।
  • আমলকি দাত, চুল ও ত্বক ভাল রাখতে কাজ করে।
  • আমলকি কেন্দ্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের কাজ করে।
  • বহুমুত্র রোগে কার্যকরি।
  • চোখের সমস্যা যেমন চোখ উঠলে আমলকির রস দিলে চোখ উঠা ভালো হয়।
  • চুল উঠা দূর করতে আমলকি অনেক কার্যকরি।
  • আমলকি মাথায় খুশকি সমস্যা সমাধান করে।
  • পেটের পিড়া সারাতে সাহায্য করে।
  • সর্দি কাসি সারায়।
  • রক্তহীনতার জন্য খুব উপকারী।
  • লিবার ও জন্ডিস রোগ সারাতে আমলকি অনেক উপকারী।

আমলকি খাওয়ার নিয়ম (Amalki eating rules)

আমলকি এমন এক ধরণের ঔষধি ভেষজ ফল। যা খেতে টক ও তেতো হয়। আমলকি আমাদের রুচি বাড়ায়। এবং ক্ষিদে বাড়াতে আমলকির গুড়োর সঙ্গে মাখন ও মধু মিষিয়ে খেতে হয়। আমলকি প্রতিদিন সকালে নিয়ম করে খেলে শরীরের ওজন কমে। ওজন কমানোর খাবার হিসাবেও আমলকি উপকারী।

আমলকির উপকারিতা

শীতকালে নানা রোগের চাপ পরে। বিশেষকরে হাপানি, শ্বাসকষ্ট, হার্ট অ্যাটাক এর সমস্যা বেশি দেখা দেয়। এই সমস্যা সমাধানে বেশ কিছু ফল খাওয়া জরুরি । তার মধ্যে আমলকি অন্যতম। আমলকি খাওয়ার কিছু উপায়,

চিবিয়ে খাওয়া

Amalki চিবিয়ে খাওয়া সবচেয়ে ভাল। কেননা চিবিয়ে খেলে এর স্বাদ অনেক্ক্ষণ মুখে লেগে থাকে। যার ফলে মুখের রুচি বাড়াতে সাহায্য করে।

নুন দিয়ে খাওয়া

আমলকি টক জাতীয় একটি ফল। যার ফলে অনেকেই আমলকি খেতে পারেনা। তাই আমলকির টক কমাতে এর সাথে কিছুটা নুন মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। যার ফলে টক কম লাগে। এছাড়া আমলকি ছোট ছোট করে কেটে এতে নুন ও লম্কা গুড়ো মিশিয়ে খাওয়া যেতে পরে। যার ফলে এর স্বাদ অনেকটা বাড়ে।

চাটনি বানিয়ে খাওয়া

অনেকে আমলকির চাটনি করে খায়৷ যারা আমলকি কাচা বা জুস করে খেতে পারেনা তারা আমলকি দিয়ে চাটনি করে খায়। যেমন,

প্রথমে আমলকি গুলোকে পরিষ্কার করে ধুয়ে সিদ্ধ করে নিতে হবে। এর পর বিচি ছাড়িয়ে এতে বিভিন্ন মষলা দিয়ে ভেজে নিতে হবে। এভাবে চাটনিকরে খাওয়া যেতে পারে। যা খেতে অনেক স্বুসাদু ও পুষ্টিকর হয়।

আমলকি কখন পাওয়া যায়

আমলকি খাওয়ার সবচেয়ে উপযোগী সময় হচ্ছে শীতকাল। শীতের মৌসমে আমলকি খেলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। আমলকি শীতকালে সহজেই বাজারে পাওয়া যায়। শীতকালে আমলকি খাওয়ার বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে যেমনঃ

শীতের সকালে আমলকি খেলে সারা বছর সুস্থ্য থাকা যায়। শীতকালে আমাদের দেহে রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যায়। তাই সুস্থ্য থাকার জন্য শীতকালে রোগ প্রতিরোধকারী খাবার খাওয়া হয়। শীতকালে রোগ প্রতিরোধ কারি ফলের মধ্যে আমলকি অন্যতম।

প্রতিদিন নিয়ম করে আমলকি খেলে যত উপকার হয় তা নিয়ে আলোচনা কর হলো

প্রতিটি মানুষকে সারা বছর ভালো থাকার জন্য প্রতিদিন একটি করে আমলকি খাওয়া দরকার। আমলকির পাতাও ঔষধ হিসাবে উপকারি৷ আমলকি ভিটামিন সি তে ভরপুর৷ আমলকিতে এমন পুষ্টি উপাদান আছে যা পেয়ারা ও কাগজি লেবুর চেয়ে ৩ গুন ও ১০ গুন বেশি।

আমলকি হজম শক্তি বাড়ায়। প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস পানি বা দুধের মধ্যে আমলকির গুড়ো দিয়ে সাথে চিনি মিশিয়ে খেলে এসিডিটির সমস্যা সমাধান হবে।।

প্রতিদিন সকালে আমলকির রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে মুখের যে কোন কালো দাগ দূর হয়ে যাবে। এবং ত্বকের উজ্জলতা বাড়াতে সাহায্য করবে। নিয়মিত আমলকি খেলে নিশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর হবে এবং দাত মজমুত হবে।

চুলের জন্য আমলকির উপকারিতা

বাজারে আমলকি বা আমলার তেল রয়েছে। আমলার তেল দিয়ে মাথার চুল মালিশ করলে চুলের ফলিকন মজমুত হয়। এবং চুল উঠা কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যবহার বা ম্যাসাজ করলে রক্ত চলাচল ভালো থাকে। ফলে চুল দ্রুত বৃদ্ধি পায়। আমলকিতে এন্টি ব্যাকটেরিয়াল গুন আছে যা চুলের  খুসকি ও চুলকানি দূর করতে সাহায্য করে।

আমলকি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। এবং দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমলকি হার্টের জন্য অনেক উপকারী এটি হার্টের ব্লক হওয়াকে বাধা দেয়। আমলকির গুড়ো ব্লাড সুগার কমাতে অনেক সাহায্য করে।

খালি পেটে আমলকি খাওয়ার উপকারিতা

আমরা প্রত্যেকেই খাবার খেয়ে জীবন বাচিয়ে রাখি। তবে খুদা কমানোর পাশাপাশি খাদ্য আমাদের আরো অনেক উপকার করে থাকে।
আমরা নিয়ম করে সকল ধরনের খাবার খায়৷ আবার আমরা নিয়ম করে বেশ কিছু ফল খেয়ে থাকি।

আমলকির রসের উপকারিতা

প্রতিটা মানুষেরই সকালে খালি পেটে আমলকির রস খাওয়া উচিত। কম করে হলেও রসের পরিমান ১০ মিলি গ্রাম হতে হবে। আস্তে আস্তে এর পরিমান বাড়িয়ে ২০ মিলিগ্রামে আনতে হবে।

আয়ুর্বেদে এমন কিছু খদ্যের কথা বলা হয়েছে যে গুলো খেলে ত্বক রোগ মুক্তির পাশাপাশি উজ্জ্বল হয়৷ তার মধ্যে আমলকি হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ ফল। আমলকিতে সকল ধরনের মিনারেল উপাদান থাকে যা আমাদের ত্বক ও শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। আমলকি ভিটামিন সি তে বরপুর থাকায় এটি আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরুধ ক্ষমতা বাড়ায়।

আমলকির জুসের উপকারিতা

আমলকির জুস করে খাওয়া যেতে পারে। অনেকে আমলকি চিবিয়ে খেতে পারে না। আর তাই আমলকি জুস করে খাওয়া যেতে পারে। যেভাবে জুস বানানো হয় তা হলো, আমলকির বিচি ছাড়িয়ে নিতে হবে। তার পর ব্লেন্ডারে একটু পানি দিয়ে ব্লেন্ড করতে হবে। এর পর পরিমান মতো দিনে ২ বার খেতে হবে। বর্তমানে দোকানে আমলকির সিরাপ পাওয়া যায়। যাতে আমলকির সকল দরনের গুন ও পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়।

আমলকির উপকারিতা

ক্যান্সার নিয়ন্ত্রনে আমলকি

 আমলকির মধ্যে রয়েছে এন্টিঅক্সিডেন্ট ও ক্যান্সার প্রতিরুধি গুন। আমলকি ক্যান্সারের কোষ বৃদ্ধি করতে বাধা দেয়। আমলকি শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বের করতে সাহায্য করে। এবং শরীরের ওজন কমাতে সাহায্য করে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে সাহায্য করে।

আমলকির অপকারীতা (Disadvantages of Amalki)

সকল কিছুর মতো আমলকির ও বেশ কিছু অপকারীতা রয়েছে। কেননা কোন কিছুই অতিরিক্ত খাওয়া ভালো না। তবে আবার কিছু জিনিস অনেকের জন্য খাওয়া একেবারেই নিষেধ । তেমনি আমলকিও  একই রকম। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমলকি না খাওয়া বা এরিয়ে চলা অনেক ভালো। যেমন,

  • কোন সার্জারি হয়ে থাকলে আমলকি খাওয়া যাবেনা।
  • ব্লাড থিনিংয়ের ঔষধ খেলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খেতে হবে।
  • যারা অন্তঃস্বত্তা তাদের আমলকি এরিয়ে যাওয়া ভালো।
  • যারা বাচ্চাকে স্তন পান করায় তাদের আমলকি খাওয়া যাবেনা।

আমলকি খাওয়ার পরিমান

একজন ব্যাক্তির দৈনিক ১-২ টি Amalki খাওয়া দরকার৷ কেননা আমলকিতে রয়েছে ভিটামিনের উৎস ৷ এতে আছে ভিটামিন সি যা আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। যার ফলে আমরা সহজেই সুস্থ থাকতে পারি।

আমলকির অপকারীতা তেমন নেই। তবে এর উপকারিতা অনেক বেশি। যার ফলে আমলকি অনেক দরকারি একটি ভেষজ ঔষধি ফল হিসাবে পরিচিত। আমলকি খাওয়ার অনেক উপকার যা আমাদের শারীরিক সুস্থতা ও শারীরিক সৌন্দর্য বাড়াতেও সাহায্য করে।

আর তাই প্রতিটি মানুষের সুস্থতার জন্য নিয়মিত আমলকি খাওয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যার ফলে একজন মানুষ শারীরিক ও মানসিক দিক দিয়ে সুস্থ থাকতে পারে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button