ফলের উপকারিতা

মধু খাওয়ার উপকারিতা ও মধুর ঔষধি গুনাগুন

মধুর সাথে আমরা সবাই পরিচিত মধু খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে আমরা সবাই কম বেশি জানি। মধু হলো আল্লাহর অনেক বড় একটা নিয়ামত। মধুর মধ্যে সকল রুগের শেফা রয়েছে। আমাদের প্রিয় নবী করীম (সা.) প্রতিদিন সকালে খালি পেটে মধু খেতেন। মধু ৯৯ প্রকার রোগের প্রতিষেধক হিসাবে কাজ করে। মধু সকল রোগব্যাধির এক অব্যর্থ মহৌষধ। পবিত্র কুরআনেও মধু খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে বলা হয়েছে।

আমরা যদি পুষ্টিকর খাদ্যের তালিকা করি তাহলে মধ্যে ১ নম্বরে থাকবে। পুষ্টিকর খাদ্যের এমন উপাদান নেই যেটা মধুর মধ্যে নেই। নিয়মিত মধু সেবন করা উত্তম। এতে অনেক রুগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এটা কুরআন এবং বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত।

মধুর পুষ্টিগুণ

মধুতে ৪৫ টি পুষ্টি উপাদান রয়েছে। মধুতে অ্যালুমিনিয়াম, ক্রোমিয়াম, বোরন, কপার, জিংক ও জৈব এসিড , ভিটামিন, হরমোনস,প্রোটিন, এসিটাইল কোলিন,ফাইটোনসাইডস, অ্যান্টিবায়োটিকস, সাইস্টোস্ট্যাটিক্স ও পানি ছাড়াও অন্যান্য পুষ্টিকর উপাদান বিদ্যমান থাকে।

মধু খাওয়ার উপকারিতা

এছাড়াও,ভিটামিন সি বা অ্যাসকরবিক এসিড, ভিটামিন বি-১, বি-২, বি-৩, বি-৫, বি-৬, ভিটামিন-ই, ভিটামিন-কে, ভিটামিন-এ ইত্যাদি পাওয়া যায়। মধু এমন ধরনের খাবার, যারকোলেস্টেরলবিরোধী, পচন নিবারক এবং ব্যাকটেরিয়াবিরোধী ধর্ম রয়েছে ।

Also Read:

জেনে নিন মধু খাওয়ার উপকারিতা এবং মধুর এই ২০ টি ঔষধি গুন

১. হৃদরোগ প্রতিরোধ করে

মধু আমাদের দেহের রক্তের প্রবাহ বৃদ্ধি করে। নিয়মিত মধু খাওয়ার ফলে হৃদরোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

মধু আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। শরীর সুস্থ রাখতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাবাড়ানো দরকার। তাই আমাদের প্রতিদিন মধু খাওয়া উচিত।

৩. দাঁত ভালো রাখে।

নিয়মিত মধু সেবন করলে আমাদের দাঁত শক্ত থাকে। মধু দাঁত পরিষ্কার রাখতেও সক্ষম।

৪. দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে।

মধুর মধ্যে পুষ্টি উপাদানের প্রায় সব উপাদান থাকে। তাই নিয়মিত মধু খেলে আমাদের দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকে।

৫. ক্যান্সার প্রতিরোধ করে

মধুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সক্ষম। মধু আমাদের কোষকে ফ্রি রেডিকেলের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারে।

৬. রক্ত বৃদ্ধি করে।

মধু হিমোগ্লোবিনের পরিমান বাড়ায় যার ফলে আমাদের রক্ত বৃদ্ধি পায়।

৭. মধু গ্যাস্ট্রিক রোগের উপকার।

প্রতিদিন মধু খেলে গ্যাস্ট্রিক এবং আলচার রোগের উপকার পাওয়া যায়।

৮. কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

নিয়মিত মধু আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য এর মতো রোগ প্রতিরোধ করে।

৯. হজম শক্তি বাড়ায়।

আমাদের অনেকের হজম শক্তি দুর্বল থাকে। তারা নিয়মিত মধু খেলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পাবে।

১০. ফুসফুসকে ভালো রাখে।

ফুসফুস আমাদের দেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। বেঁচে থাকার জন্য ফুসফুস ভালো রাখা খুব জরুরি। মধু ফুসফুস ভালো রাখে।

১১. মুখের দুর্গন্ধ দূর করে।

ভিবিন্ন কারণে মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে। মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে মধু খুব ভালো কাজ করে।

১২. বাতের ব্যথা দূর করে।

আমাদের মধ্যে প্রায় লোকের বাতের ব্যথা রয়েছে। নিয়মিত মধু পান করলে বাতের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

১৩. মাথা ব্যথা দূর করে।

প্রতি দিন মধু খেলে মাথা ব্যথা দূর হয়।

১৪. শিশুদের ওজন বৃদ্ধি করে।

বয়সের তুলনায় অনেক শিশুর ওজন কম হয়। মধু খেলে শিশুদের ওজন বাড়ে।

১৫. ঠাণ্ডা কাশি-হাঁপানি দূর হয়।

আমরা অনেকেই অতিরিক্ত ঠান্ডা অনুভব করি। মধু আর কালোজিরা একসাথে খেলে শরীর গরম হয়। এবং অনেক রোগ থেকে মুক্তি লাভ করা যায়।

মধু খাওয়ার উপকারিতা

১৬. মধু শক্তি বাড়ায়।

কাজ করার জন্য আমাদের শক্তির প্রয়োজন। অনেক কাজ করার ফলে আমরা ক্লান্ত হয়ে যায়। মধু আমাদের দেহের শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

১৭. যৌন দুর্বলতা দূর করে।

যাদের যৌন দুর্বলতা আছে তারা নিয়মিত মধু খাবেন। মধু এবং ছোলা একসাথে মিশিয়ে খেলে যৌন দুর্বলতা দূর হয়।

১৮. পাকস্থলী সুস্থ রাখে মধু।

খাদ্য পরিপাকের জন্য পাকস্থলী সুস্থ রাখা জরুরি। নিয়মিত মধু খেলে পাকস্থলী ভালো থাকে।

১৯. দেহের পানি শূন্যতা দূর করে।

যাদের পানি শূন্যতা রোগ আছে তারা পানি আর মধু একসাথে খাবেন। এতে অনেক উপকার পাবেন।

২০. অনিদ্রা দূর করে।

নিয়মিত মধু খেলে গুম ভালো হয়। অনিদ্রা দূর হয়। যাদের ঘুমের সমস্যা আছে তারা মধু খেতে পারেন।

মধু নিয়ে মানুষের সাধারণ প্রশ্ন

১. মধু কিভাবে তৈরী হয় ?

মৌমাছির পাকস্থলীতে রাসায়নিক জটিল বিক্রিয়ায় যে পদার্থ উৎপন্ন হয় সেটায় মধু।

২. মধুতে কয়টি পুষ্টি উপাদান রয়েছে ?

মধুতে প্রায় ৪৫ টি উপাদান রয়েছে যা আমাদের জন্য প্রয়োজনীয়।

৩. মধু আমাদের শরীরে কি কাজ করে ?

মধু হলো সব রোগের অব্যর্থ মহা ঔষধ। মধু ৯৯ টি রোগের মহা ঔষধ।

আরো পড়ুন

আমাদের শেষ কথা

মধু আল্লাহর এক অশেষ নিয়ামত। মধুর মধ্যে সব ধরনের পুষ্টিগুণ রয়েছে। সবার খালি পেটে মধু খাওয়া উচিত। রাসুল (সা) বলেছেন কেউ যদি সুস্থ থাকতে চায় তবে সে যেনো প্রতিদিন মধু খায়। রাসূলুল্লাহ (সা) খেজুর খেতে খুব পছন্দ করতেন। মধুতে থাকা পুষ্টি আমাদের দেহের জন্য অত্যান্ত প্রয়োজনিয়। হাদিস অনুযায়ী মধু খাওয়ার উপকারিতা রয়েছে। মধু এবং কালোজিরা মৃত্যু ছারা সব ধরনের রোগে ঔষধ। তাই আমাদের সবার উচিত প্রতিদিন কম বেশি মধু পান করা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button