পুশ আপের উপকারিতা

পুশ আপের উপকারিতা: প্রতিদিন কয়টি পুশ আপ করা জরুরি

পুশ আপ: পুশ আপ হলো মুখ নিচের দিকে অর্থাৎ উপুড় হয়ে শুয়ে থেকে হাতের উপর ভর করে উঠা নামা করাকে পুশ আপ বলে। আজকে পুশ আপের উপকারিতা সম্পর্কে জানবো।
শরীরচর্চা দেহ ও মন ভালো রাখার খুব গুরুত্তপূর্ণ একটি পক্রিয়া। ব্যায়ামের একটি অংশ হলো পুশ আপ। পুশ আপ এমন একটি ব্যায়াম যা আপনি যেকোন জায়গাতেই করতে পারবেন। পুশ আপ করার জন্য কোনো যন্ত্রপাতির দরকার হয় না। যন্ত্রপাতি ছাড়াই এই ব্যায়াম ভালো ভাবে করা যায়।

শারীরিক গঠন সুন্দর রাখার জন্য পুশ আপের ভূমিকা অপরিসীম। পুশ আপ এমন একটি ব্যায়াম যার একাদিক উপকারিতা রয়েছে। শুধু পুশ আপের মাধ্যমে পেশী, বুক এবং পেটের উপকার পাওয়া যাই। তাই বলা যায় আপনি যদি একটি মাত্র ব্যায়াম করার ইচ্ছা করেন তাহলে পুশ আপ করতে পারেন। কারণ এই একটি মাত্র ব্যায়ামের ধারা আপনি অনেক উপকার পাবেন।

তবে পুশ আপ খুব কঠিন একটি ব্যায়াম। এটি অন্য ব্যায়ামের মতো সাধারণ কোনো ব্যায়াম নয়। আপনি সঠিকভাবে পাশ আপ করতে পারলে অনেক উপকার পাবেন। পুশ আপ ব্যায়ামটি এমন কোনো ব্যায়াম নয় যা চাইলেই আপনি প্রথম থেকে এটি ভালোভাবে করতে পারবেন। এই ব্যায়ামটি কঠিন হওয়ার কারণে সঠিকভাবে করতে একটু সময় লাগবে।

পুশ আপ করার সময় আপনার পিঠকে প্লাঙ্কের মতো সোজা রাখতে হবে। এটি তখন করতে হবে যখন আপনি পিঠকে ফ্লোরের দিকে নামাবেন। ভুল নিয়মে পুশ আপ করলে আপনি কখনো ভালো উপকারিতা পাবেন না। সঠিক নিয়মে না করার কারণে আপনার ইনজুরির সম্ভবনা থাকে। শুরুতে আপনি একবারে ২০ টি পুশ আপ করতে পারেন। আমাদের জীবনে ব্যায়ামের উপকারিতা অপরিসীম।

নিয়মিত পুশ আপের উপকারিতা

সারা শরীরের ব্যায়াম হয়।

পুশ আপ এমন একটি ব্যায়াম যা সারা শরীরের সার্বিক উন্নতি সাধন করে। শুধু মাত্র পুশ আপের মাধ্যমে সারা দেহের ব্যায়াম হয়ে যায়। পুশ আপ করলে মাংস পেশির উপর টান পরে এতে পেশির শক্তি বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও পুশ আপের দ্বারা পেট, বুক, কাঁধ, ও শরীরের নিচের অংশ শক্ত হয়।

দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে।

এই ব্যায়াম আমাদের শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে। ব্যায়াম করলে আমাদের দেহের কোষগুলো সতেজ হয়। কোষ সতেজ হলে দেহের উন্নতি হয় এবং শক্তি বৃদ্ধি পায়। পুশ আপের কারণে স্নায়ু শক্তিশালী হয় এবং ফাইবার এর উন্নতি হয়। তাই বলা যায় পুশ আপ দেহের ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে।

মাংস পেশির ঘনত্ব ঠিক রাখে।

নিয়মিত পুশ আপ পেশির ঘনত্ব ঠিক রাখে। মানুষের বয়স ভাড়ার সাথে সাথে শরীরে ক্লান্তি আসে। কারণ হলো মাংস পেশির ঘনত্ব কমে যাওয়া। তাই নিয়মিত পুশ আপ করলে পেশির ঘনত্ব বেড়ে যায়। শরীরের ক্লান্তি দূরে থাকে। পুশ আপের কারণে সার্বিক কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

শরীরের উপরিভাগের শক্তি বৃদ্ধি পায়

জনপ্রিয় এই ব্যায়াম টি করার সময় হাতের শক্তি বাড়ে। আমরা যখন হাতের উপর ভর করে উঠা নাম করি তখন পেশিতে টান পরে। হাতের উপর ভর দিয়ে উঠা নাম করলে বুকের প্রসার হয় এবং মেরুদণ্ড সোজা থাকে। এই ব্যায়াম করার কারণে দেহের উপরিভাগের শক্তি বাড়ে। তাই প্রতি দিন যত টুকু পারেন ব্যায়াম করুন।

পুশ আপের উপকারিতা

পুশ আপের কিছু সতর্কতা

  • পুশ আপ করার সময় তাড়াহুড়া করবেন না।
  • পিঠ এবং ঘাড় অর্থাৎ শরীর সোজা রাখেন।
  • নিতম্বকে সোজা রাখা জরুরি।

পুশ আপ অম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর

প্রতিদিন কয়টি পুশ আপ করা জরুরি?

প্রাথমিকভাবে ২০ টি বা তার কম দিয়ে শুরু করতে পারেন। তার পরে আস্তে আস্তে বৃদ্ধি করুন। মনে রাখবেন দেহের উপর জুর খাটাবেন না। আপনার শরীর যত টুকু পারে।

কখন পুশ আপ করবো ?

আপনি আপনার সময় অনুযায়ী করতে পারেন। তবে সকালে বা বিকালে করা ভালো। একদম খালি পেটে বা ভরা পেটে পুশ আপ করবেন না।

আমাদের শেষ কথা

পুশ আপ খুব উপকারী একটি ব্যায়াম। আপনার বডি ফিট রাখা জন্য আপনি প্রতিদিন এই ব্যায়াম করতে পারেন। শরীরের ওজন কমানো বা পেটের মেদ কমানোর জন্য এই ব্যায়াম টি খুব উপকারী। তাই নিয়মিত সঠিকভাবে নিয়ম মেনে পুশ আপ করুন। পুশ আপের উপকারিতা সম্পর্কে জানুন। প্রতিদিন এমন উপকারী পোস্ট পেতে আমাদের হোম পেজ ভিসিট করুন

About আবিদ হাসান আবির

Check Also

ডিমের উপকারিতা ও অপকারিতা

ডিমের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ

ডিম কি বিভিন্ন প্রজাতির প্রানীদের স্ত্রী জাতির পাড়া একটি ডিম্বাকার জিনিস যেটা মেমব্রেন স্তর দিয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *